Tuesday, 25 August 2020

ইউরোপীয় ধ্রুপদী সংগীতের কাহিনীঃ প্রথম পর্ব

প্রথম পর্ব

আমি ঠিক জানি না কত শতাংশ বঙ্গবাসী পশ্চিমী ধ্রুপদী সংগীত শোনেন৷ তবে সংখ্যাটি নগন্য। তবু কেউ কেউ আজকাল পশ্চিমের ক্লাসিকাল শুনছেন দেখি। পশ্চিমী গানমাত্রেই ঝ্যাংঝ্যাং, চিৎকার, পেটকামড়ানো ডাক, কুকুরকেত্তন (আমজনতা এসব বলে থাকেন, আমি বহুজনের কাছে শুনেছি) নয়। ইউরোপের ক্লাসিকাল সংগীত প্রাচ্যের গানের মতোন বা কখনো তারচেয়েও অনেকাংশে বেশি সুন্দর। সে না হয় তর্ক সাপেক্ষ। কিন্তু দুই গীতদর্শনের মধ্যে প্রভেদ তো আছেই। 

যা মনে হয়, হিন্দুস্তানি ক্লাসিকাল ও ইউরোপের ক্লাসিকালের মধ্যে মূল পার্থক্য হল, ভারতে রাগাশ্রয়ী গান বা বাজনা হওয়ায় সেখানে বেশিরভাগটাই নিজের মতো ইম্প্রোভাইজ বা ভ্যারিয়েশন করা যায়। এখানে গায়ক বা বাদকই মুখ্য। ভারতে হিন্দুস্তানি ক্লাসিকাল সংগীতে ভাবের গুরুত্ব প্রশ্নাতীত। তাই পাঁচজন সেতারবাদক একই রাগের একই সুরকে পঁচিশরকম করে বাজাতে পারেন, স্বাধীনতা আছে। কিন্তু ইউরোপে সুরকারই প্রধাণ। দুএকটা জায়গা এদিকওদিক করে বাজালেও মূল সুরকে যা খুশি বদলানো যায় না। তাই সুরগুলো বিখ্যাত হয়েছে সুরকারের নামে। সেখানে বাদকের গুরুত্ব ইন্টারপ্রিটেশনে। একটা সুরকে একজন কিভাবে বোঝাচ্ছেন, সেইটা আসল। 

এক্ষেত্রে একটা মজার সাক্ষাৎকারের কথা বলা যায়। আন্দালুসিয়ান ফ্লেমিংকো ঘরানার প্রখ্যাত গিটারবাদক পাকো দে লুসিয়া পন্ডিত রবি শংকরকে জিগ্যেস করেছিলেন রাগ কি? উত্তরে পন্ডিত বলেছেন, রাগ কোনো স্কেল নয়, কি (key) নয়, মোড নয়। রাগ অনেক গভীর জিনিস। পন্ডিতের কথা পাকো দে লুসিয়া বুঝেছিলেন কিনা জানি না তবে ভারতের গান সম্পর্কে এক ইউরোপীয় সংগীত মহাশিল্পীর বিস্ময় এই পার্থক্যকেই নির্দেশ করে। 

আমি লিখব পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সংগীত নিয়ে। এখানে উল্লেখ্য, আমি গাইতে জানি না, বাজাতেও পারি না সেভাবে। কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ পশ্চিমী ধ্রুপদী শুনে এবং আমার জনৈক বন্ধু ও দাদা সাগ্নিক সামন্তের কথায় লিখতে বসেছি। লেখার একমাত্র উদ্দেশ্য যেসব অমূল্য রত্ন বৃহত্তর বাঙালী কেবল আলস্য ও উন্নাসিকতায় গ্রহণ করেনি, তাদের সামনে আনা। এমন নয় যে এগুলো জঞ্জাল ঘেঁটে বা ছাই উড়িয়ে পেয়েছি। আপনিও ইউরোপের সংগীতের থেকে মাত্র কয়েকটি ক্লিক দূরে রয়েছেন। ইউটিউব বা গুগলে সবই রয়েছে। আমি দেখিয়ে দেব মাত্র। আমার জ্ঞানও ইন্টারনেট থেকেই। তাই কোনোটাই অবাক হওয়ার বা না জানার কথা না৷ প্রয়োজনীয় সোর্সও পেয়ে যাবেন। তবে বোকার মতোন কয়েকটা লিঙ্ক শেয়ার না করে কিছু বিখ্যাত সুরকারের জীবন বা উল্লেখযোগ্য ঘটনা বললে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। 

আমি লিখব সাতটি পর্ব৷ আগেই বলে দিলাম। আজ প্রথম। আজকে ভূমিকা, শিবের গীত আর একটু ইতিহাস ইত্যাদি করেই কাটাবো। এরপর থাকবে সুরকারদের গল্প। দ্বিতীয়তে থাকবেন বারোক যুগের বাখ ও ভিভালডি। অবশ্য সেজন্য রেনেসাঁ ও  বারোক যুগ সম্পর্কেও একটু বলা ভালো। তারপর ক্লাসিকাল যুগের মোজার্ট। চারে আসবেন ক্লাসিকাল ও রোমান্টিক যুগের সন্ধিক্ষণে বেঠোফেন। পাঁচে রোমান্টিক যুগের দুই পিয়ানোশিল্পী শপ্যাঁ ও লিৎজ। ছয়ে নিকোলো পাগানিনি ও আরো কিছু সংযোজন। সপ্তম পর্বে মিলিয়ে মিশিয়ে আরো কিছু বিখ্যাত সুরকারের গল্প। 

ইউরোপের ধ্রুপদী সংগীতের যন্ত্র বা ইন্সট্রুমেন্ট বললেই প্রথম যেটা মাথায় আসে তা হল পিয়ানো। কিন্তু সংখ্যায় দেখলে হয়তো বেহালা বা ভায়োলিনের ব্যবহার বেশি। হয়তো স্বদেশেও এর ব্যবহার বহুল বলে ইউরোপের গানের সঙ্গে পিয়ানোর সম্পর্ক গভীর। পিয়ানো আবার পার্কাসিভ যন্ত্র কিন্তু বাজে তারযন্ত্র হিসেবেই৷ পিয়ানোর কি টিপলে হাতুড়ির ঘায়ে তার বাজে বলেই বোধহয় এসব ষড়যন্ত্র। এছাড়া আছে হার্প (বীণা নয়, কক্ষনো নয়)। ভায়োলিন বাদেও একইরকম দেখতে, আকারে বড় একাধিক তারযন্ত্র আছে। কলেবর অনুযায়ী এরা হল ভিওলা, চেলো ও ডাবল বেস। এই গোত্রের যন্ত্রকে বলে ফিডল। 

বাতাসে বাজে এরকম যন্ত্র আবার দুরকম। একটা কাষ্ঠনির্মিত উডউইন্ড শ্রেণি, আরেকটা ব্রাস বা কাঁসা নির্মিত। কাঠের আকালে এখন ফাইবার, প্লাস্টিক সব দিয়েই উডউইন্ড তৈরি হচ্ছে৷ বাঁশি, পিকোলো (পুচকে বাঁশি), ক্ল্যারিনেট, ইংলিশ হর্ন (সানাই জাতীয়), বাসুন, কন্ট্রাবাসুন (মোটা ভারী আওয়াজের) এগুলো ছাড়াও স্যাক্সোফোন আছে। স্যাক্সোফোন ব্রাস মেটালের হয়েও কার্যনীতিতে কাঠদের দলেই রয়ে গেছে। কাঁসার দলে ট্রাম্পেট, ট্রমবোন, টুবা, ফরাসী হর্ন (ভেঁপু) থেকে গেছে। 

তালবাদ্যে বিভিন্ন রকমের ড্রাম আছে, কাঁসার চাকতি আছে, গং নামক কাঁসর, তেকোনো টিংটিং শব্দের ট্যাঙ্গেলও রয়েছে৷ 

তবে সিংহভাগ সুর বাজানো হয় ফিডলগুলোতে। তাদের মধ্যে আবার ভিওলা চূড়ান্ত উপেক্ষিত। ক্লাসিকাল গানের সঙ্গে যুক্ত যে কেউ জানে ভিওলা জোকসের কথা। সেটা মুখ্য নয়৷ ঘটনা হল ভায়োলিন নিজের সুর, আকার, তাকে নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা, সুন্দরতম প্রোডাকশন ও অসংখ্য মহারথী শিল্পীর ছোঁয়ায় প্রধাণ সংগীতযন্ত্র হয়ে উঠেছে৷ অবশ্য তারমানে এই নয় যে বাকিরা ফ্যালনা। প্রত্যেক যন্ত্রেরই নিজস্বতা রয়েছে। আমি অন্তত এই ব্যাপারে নিশ্চিত যে পৃথিবীর যেকোনো যন্ত্রসংগীত কোনো পন্ডিত শিল্পীর হাতে পড়লে সেটা শুনতে ভালো হবেই। সেটা বেহালাই হোক বা কন্ট্রাবাসুন।  

কণ্ঠসংগীতে অপেরা একটা বড় দিক। অনেকটা আমাদের গীতিনাট্য বা নৃত্যনাট্যের মতোই। প্রথমদিকে যীশু-তাঁর জীবন-ক্রুসিফিকেশন এইসব নিয়ে পালা হত। পালা বলছি কারণ স্টেজে অভিনয় গান নাচ একত্রে হলে তাকে ইউরোপের পালা বা যাত্রা বা এমনি কিছু একটা বললে বোঝানো সহজ হবে৷ সেরকম গায়ক গায়িকার তিন চার অক্টেভে গলা নিয়ে খেলা করার ক্ষমতাও ছিল৷ কখনো আবার বিভিন্ন রকমের কন্ঠের ব্যবহার একত্রে কোরাসে মূর্ছনা তৈরিও হত। তেমনি চারণকবিরা বাঁধত ব্যালাড। ইতিহাস ও অ্যাসটেরিক্সের বই-এ কলরবিক্সের কথা কমবেশি সকলেই জানি। এরা ধর্মীয়, মানবজীবন ও দেশপ্রেমমূলক গান তৈরি করত। আবার প্লেগের সময় ঈশ্বরের রোষ, ক্রুসেডের সময় বীররসাত্মক গানের জনপ্রিয়তা বাড়ে৷ আরো অনেকরকমেরই গানের ধরণ ছিল বা আছে। যতদিন দিন গড়িয়েছে নয়া ঘরানা ও ভঙ্গির আগমন হয়েছে। 

আগে বেশিরভাগ গানই ছিল ভক্তিগীতি বা ধর্মসংগীত। নবজাগরণের পর থেকে সব জায়গার মতোই ধর্মীয় ওপেরার সঙ্গে রাজারাজড়ার বা সাধারণ মানুষের গল্পও উঠে এসেছে। কিন্তু বড়লোকের অপেরাই একমাত্র নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত হত না। রুচি বা ক্ষমতার নিরিখে একাধিক রকমের নাটক বা পালা চলত। প্রেক্ষাগৃহে চেয়ারে বসে উপভোগের সামর্থ্য যাদের ছিল না তাদের জন্য মেঝেতে চটও পাতা হত৷ ইংল্যান্ডে এই রকম দর্শকদের বলত গ্রাউন্ডি। কিন্তু নবজাগরণেরও অনেক আগে থেকে গান ছিল। সুর ছিল। 

সারা বিশ্বেই সঙ্গীতের ইতিহাস বহুপ্রাচীন। ইউরোপে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতায় বা রোমে সঙ্গীত মনোরঞ্জন, শিল্প-সংস্কৃতির এক বড় দিক ছিল। ছিল হার্প। ল্যুট জাতীয় বাদ্যযন্ত্র (গিটার, সেতার, দোতারা, উকুলেলে ইত্যাদি তারযন্ত্র যে গোত্রের), বিভিন্ন বাঁশি, শিঙা, ভেঁপু ও একাধিক তালবাদ্য ব্যবহৃত হত। রোমে তাল রাখার জন্য স্ক্যাবেলাম নামক এক ধরণের খড়মের প্রচলন ছিল। গান করার সময় বা অন্য কিছু বাজানোর সময় পায়ে চটাস চটাস করে শব্দ করত। কিন্তু রোম বা গ্রিসের আমলের সংগীতের সঙ্গে আমরা যাকে ইউরোপীয় ধ্রুপদী বলি তার আগমন অনেক পরে। মধ্যযুগের শুরু থেকে তার নান্দীমুখ। 

রোমের পতন হয়েছিল ৪৭৬ খ্রীষ্টাব্দে। তখনই প্রাচীনযুগের শেষ। প্রাচীন সংগীতও ৫০০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে পরিবর্তন হতে লাগল। তখন সংগীত ছিল অনেক সরল। মনোফোনিক অর্থাৎ তুলনামূলক  সরলভাবে চার্চে গান হত। তখন একটু একটু করে কনস্তান্তিনোপলে এশিয়ার, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উত্তর আফ্রিকার সংগীতের প্রভাব পড়ছে। ফলে বিভিন্ন স্থানীয় বৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ায় বৈচিত্র্য বাড়ল। সারা ইউরোপে একইরকমের মন্ত্রগীতি (চার্চের নিয়মানুযায়ী চ্যান্ট) তৈরির চেষ্টা হল। পোপ প্রথম গ্রেগরি চ্যান্টের ক্ষেত্রে বিশেষ সংস্কার করেন৷ সে প্রায় চোদ্দশ বছর আগের কথা। শার্লাম্যান পরবর্তী পূর্ব রোম সাম্রাজ্যের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে যেমন খ্রীষ্টধর্মের জনপ্রিয়তা বাড়ল, তেমনি বাড়ল চার্চের হাতে ক্ষমতা। সংগীতে চার্চের নজরদারি ও দখলদারিও বৃদ্ধি পেল। এক দেশ এক সুরের লক্ষ্যে স্বয়ং শার্লাম্যান সাম্রাজ্যে সংগীতজ্ঞদের ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। গ্রেগরি প্রণীত গ্রেগরিয়ান চ্যান্ট এখনও বিশ্বের বিভিন্ন গির্জায় গাওয়া হয়। এভাবেই ইউরোপীয় ধ্রুপদী সংগীতের যাত্রা শুরু হয়। মনোফোন থেকে আসে পলিফোনি, মেলোডি, হারমোনি। মধ্যযুগের হাজার বছরে চার্চকেন্দ্রিক বা ধর্মনিরপেক্ষ একাধিক সংগীতের ফর্ম তৈরি হয়েছে। তার সবকিছু আলোচনা করা সম্ভব না। 

নবজাগরণের কাল ধরা হয় ১৪০০ থেকে। এসময়ের সবচেয়ে বড় ঘটনা বোধহয় ছাপার যন্ত্র আবিষ্কার। এতে যা হল লিখিত সংগীত এবার ছাপার আকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। অনেক সময় একই গানের বা সুরের একাধিক সংস্করণ বিভিন্ন জায়গায় চলত। মুদ্রিত সুর সেই সমস্যার সমাধান করল। কিন্তু যে গান চিরকালই প্রতিষ্ঠানের বাইরের তাকে কি আর ছাপাখানায় ধরা যায়? বিভিন্ন লোকগীতি একেক জায়গায় সামান্য সুর বা কথা পরিবর্তিত হয়ে চলে। আমাদের বাংলাতেই এরকম হাজার হাজার লোকগীতি আছে যার একাধিক রূপ। ভারতের ক্লাসিকাল বৈচিত্র্যময় এই একই কারণে।

আল্পস পর্বত ভাষা ও সংস্কৃতির ন্যায় দক্ষিণ ইউরোপ ও উত্তর ইউরোপের আঞ্চলিক গানেও পার্থক্য করেছে৷ ফলে জার্মানি-অস্ট্রিয়া-পোল্যান্ড বা পূর্ব ইউরোপীয় ধাঁচের চেয়ে ইতালি, ফ্রান্সের গানে প্রভেদ আছে। আবার ইতালির সঙ্গে ফরাসী গড়নেও পার্থক্য অনেক। আমার মতে ভাষার মতো ইতালি বা ফরাসী গানের কথাও একটু গোল গোল। জার্মানি অস্ট্রিয়া পোল্যান্ডে কোনা-খাঁজ একটু বেশি। আমি কোনো ভালো বা খারাপ বলছি না৷ জানি না, আমার ভুলও হতে পারে। মোট কথা মুদ্রিত সুরে এজাতীয় ভ্রমের সম্ভাবনা কম। সুরের একইরকম গঠনরূপ পাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে তাত্ত্বিক গবেষণা ও উন্নতির চেষ্টা দেখা দিল। তৈরি হল পশ্চিমী স্বরলিপির প্রাথমিক রূপ। বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারীদের গবেষণায় পুরোনো যন্ত্রাংশের উন্নতি ও একাধিক নতুন বাদ্যযন্ত্রও তৈরি হল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবশ্যই ভায়োলিন বা বেহালা। সে কথা অন্যদিন বলব। 

প্রায় দুশো বছরের রেনেসাঁ যুগে একাধিক নতুনত্ব ইউরোপের সংগীতকে নিয়ে যাচ্ছিল উন্নতির দিকে। আবার প্রাচীন গ্রিক রোমের সংস্কৃতিকে ফেরানোর একটা সচেতন প্রচেষ্টাও লক্ষিত হয়। এই যুগের অন্যতম সুরকার দেস প্রেজের সংগীতের প্রভাব পরবর্তী বারোক যুগের আগে অব্দি ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। তখনই আবার হল মার্টিন লুথারের হাতে প্রোটেস্টান্ট আন্দোলন। ক্যাথলিক চার্চের বিপরীতে ধর্মীয় সংস্কার হওয়ার সঙ্গে সংগীতেও এল নতুন হাওয়া। ফলে বৈচিত্র্য বাড়ল বই কমল না। ১৫৩০ এর পর ভেনিসে নতুন রকমের এক সংগীত চর্চা শুরু হল। এই নতুনত্ব ক্রমশ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ল। তবে রেনেসাঁ সংগীতকে হাতে ধরে বদলালেন ফ্লোরেন্সের জিওভানি দি বার্দি। তিনি নিজে সংগীতশিল্পী ছিলেন কিনা জানি না, তবে ছিলেন সংগীতের পৃষ্ঠপোষক। ফ্লোমিরেন্টিন ক্যামেরাতা নামক এক দল বানিয়ে সেখানে তৎকালীন প্রাজ্ঞ সংগীতশিল্পীদের নিয়োগ করেন। কাভালিয়েরি ও মালভেজ্জি প্রমুখ শিল্পীরা প্রায় হাতে ধরে যুগ বদলে দিলেন। শুরু হল বারোক যুগ। অবশ্য বারোক কেবল সংগীতের যুগ না, এটি একটি শিল্প আন্দোলন। কেন বারোক কোথায় বারোক সেসব আর আজকে বলতে বসব না৷ আগামী লেখায় থাকবে। 

পশ্চিমী ধ্রুপদীতে খুব ভালোর সঙ্গে খুব খারাপ কম্পোজিশনও কম নেই৷ কিন্তু কালের নিয়মে খারাপগুলো বিদেয় নিয়েছে। আবার অনেক ভালো সুরও হারিয়ে গেছে। কিন্তু মোদ্দা কথা হল পশ্চিমী ধ্রুপদীর ইতিহাস অনেক পুরোনো এবং জটিল। আমি ভীষণ গভীরে কিছু যাব না। এই লেখা পরিচয় পর্বটুকু কোনোক্রমে সেড়ে দেবে। বাকিটা পাঠকের দায়িত্ব।